

নবজাতকের জন্মের পরপরই আমরা দেখতে পাই তার ত্বক ধীরে ধীরে খসে যেতে শুরু করে। এটি দেখে অনেক অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েন—শিশুর কি কোনো চর্মরোগ হয়েছে? নাকি এটি স্বাভাবিক কিছু?
আসুন জেনে নিই, কেন নবজাতকদের ত্বক খসে যায় এবং এর পেছনের কারণ কী।
বাচ্চার জন্মের পর তার গায়ের ওপর থাকা প্রাকৃতিক আবরণ বা vernix caseosa ধুয়ে যায়। এই আবরণ তার গর্ভাবস্থায় ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। জন্মের পর এই আবরণ উঠে যেতে থাকায়, শিশুর বাইরের ত্বক খোসার মতো খসে পড়ে। এটা একদম স্বাভাবিক এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।

স্বাভাবিক প্রক্রিয়া
জন্মের পরে শিশুর শরীর নতুন পরিবেশে আসে। মায়ের গর্ভের আদ্র পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে শিশুর ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এই কারণে স্কিন পিলিং (skin peeling) বা খসে পড়া দেখা যায়।

ত্বক শুকিয়ে যাওয়া
যেসব শিশু সময়মতো জন্মায় (৩৮-৪০ সপ্তাহে), তাদের ত্বকে খোসা পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অপরিপক্ব শিশুদের তুলনায়, তাদের গায়ে বেশি vernix জমে থাকে না, তাই জন্মের পর খোসা বেশি পড়ে।

baby skin peeling
✅ ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না।
✅ গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
✅ নরম তোয়ালে দিয়ে শিশুকে মুছুন।
✅ বেবি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন (পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শে)।
✅ প্রাকৃতিক তেল যেমন নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিকার ও পরিচর্যার টিপস
যদি আপনি লক্ষ্য করেন—
শিশুর ত্বক লাল হয়ে যাচ্ছে
ফুসকুড়ি বা ফাটল দেখা দিচ্ছে
রক্ত বের হচ্ছে বা ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে
তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

চিকিৎসকের পরামর্শ কবে লাগবে
নবজাতকের ত্বক খসে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক বিষয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়। অভিভাবকদের উচিত শান্ত থাকা এবং শিশুর ত্বকের পরিচর্যায় নরম ও সুরক্ষিত পদ্ধতি অবলম্বন করা।