

গর্ভাবস্থার ১৪ তম সপ্তাহ মানেই দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের শুভ সূচনা। এ সময়টি মায়েদের জন্য অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভের শিশু দ্রুত বেড়ে উঠছে এবং মায়ের শরীরেও কিছু লক্ষণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সপ্তাহে কী কী ঘটতে পারে এবং করণীয় বিষয়সমূহ।

লক্ষণসমূহ
১. পেটের আকারে সামান্য বৃদ্ধি
২. বমিভাব ও বমি কমে আসা
৩. ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
৪. স্তনে কিছুটা পরিবর্তন ও আরাম
৫. চুল ও ত্বকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
৬. কখনও কখনও মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
৭. কব্জি বা পায়ে হালকা ফোলাভাব

শিশুর বিকাশ
শিশুর আকার প্রায় একটি লেবুর সমান (৩.৪ ইঞ্চি)।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়ে যাচ্ছে এবং শরীরের অঙ্গগুলো কার্যকরভাবে কাজ শুরু করছে।
শিশুর মুখাবয়ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে, চোখ কান সঠিক জায়গায় অবস্থান নিচ্ছে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান।

খাদ্যাভ্যাস
চিকিৎসকের অনুমোদিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, প্রেগন্যান্সি যোগাসন উপকারী হতে পারে।
হাইড্রেটেড থাকা জরুরি, তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
দুই দিক ঘুরে শোয়া উত্তম। পেটের উপর চাপ দেওয়া উচিত নয়।
ইতিবাচক চিন্তা ও প্রশান্তি বজায় রাখুন। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং নিন।

Healthy lifestyle for pregnant woman
নিয়মিত প্রসবপূর্ব চিকিৎসা (Antenatal check-up) চালিয়ে যান।
আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasound) এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে করা হয়।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।
যেকোন অস্বাভাবিক লক্ষণ যেমন রক্তপাত, তীব্র পেট ব্যথা, বা জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

চিকিৎসা পরামর্শ
১৪ তম সপ্তাহে গর্ভাবস্থা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে, যেখানে মা এবং শিশু উভয়ের শারীরিক ও মানসিক উন্নতি শুরু হয়। সঠিক জীবনযাপন, সুষম খাদ্য ও চিকিৎসা পরামর্শ মেনে চললে এই সময়টি হয়ে উঠবে আনন্দময় ও নিরাপদ।
এক নজরে দেখে আসুন সপ্তাহভিত্তিক প্রেগনেন্সি গাইড