

গর্ভাবস্থার ১৭ তম সপ্তাহ মানে আপনি এখন দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্য ভাগে রয়েছেন। এই সময়ে আপনার শরীরে এবং গর্ভের শিশুর বিকাশে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। এ সময়ের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি, যাতে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ থাকে।
এই সময়ে অনেক মায়েরা নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করতে পারেনঃ
পেটের আকার বৃদ্ধি – শিশুর বৃদ্ধি অনুযায়ী পেট ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
শিশুর নড়াচড়া অনুভব – কিছু মা হালকা ‘ফ্লাটারিং’ বা নড়াচড়া অনুভব করতে শুরু করেন।
ওজন বৃদ্ধি – গড়ে ২-৪ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
ত্বকে পরিবর্তন – স্ট্রেচ মার্কস ও ত্বকের রঙে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
হরমোনের প্রভাব – মুড সুইং, ক্লান্তি, ও ক্ষুধা বৃদ্ধি হতে পারে।

১৭ তম সপ্তাহের গর্ভাবস্থা
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
দুধ, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
হালকা ব্যায়াম করুন
ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী হালকা হাঁটা বা গর্ভকালীন যোগ ব্যায়াম করতে পারেন।
স্ট্রেস এড়ান
মানসিক প্রশান্তির জন্য বই পড়া, সঙ্গীত শোনা বা মেডিটেশন করুন।
নিয়মিত চিকিৎসকের চেকআপ
আল্ট্রাসাউন্ড ও প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করান।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
ভিটামিন ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করুন।
হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা, রক্তপাত বা অস্বাভাবিক স্রাব হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস চেক করুন।
১৭ তম সপ্তাহে শিশুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২-১৩ সেমি এবং ওজন প্রায় ১০০-১৪০ গ্রাম হয়ে যায়। হাড় আরও শক্ত হয়, চুল গজাতে শুরু করে এবং কানের শ্রবণ ক্ষমতা উন্নত হয়।
কাঁচা বা আধা সিদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।
ধূমপান, মদ্যপান ও ক্যাফেইন কমিয়ে দিন।
ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।
উপসংহার
গর্ভাবস্থার ১৭ তম সপ্তাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত চেকআপ মা ও শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে। নিজের যত্ন নিন, এবং সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
এক নজরে দেখে আসুন সপ্তাহভিত্তিক প্রেগনেন্সি গাইড